দেশের স্বাস্থ্যসেবা আরও বিস্তৃত করতে সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় নতুন করে ৫৪০টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। জমি পাওয়া এবং প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ সাপেক্ষে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে তিনি স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
ময়মনসিংহ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসানের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে ১৪ হাজার ৪৬০টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার আওতার বাইরে থাকা এলাকায় জমি ও বাজেটের প্রাপ্যতা নিশ্চিত হলে আরও ৫৪০টি নতুন ক্লিনিক নির্মাণ করা হবে।
বছরে শনাক্ত হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার নতুন ক্যানসার রোগী
সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইয়াসমিন এবং সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থার (আইএআরসি) ‘গ্লোবোক্যান ২০২২’ প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি জানান, দেশে প্রতি বছর আনুমানিক ১ লাখ ৬৭ হাজার ২৫৬ জন নতুন ক্যানসার রোগী শনাক্ত হন। ক্যানসারে বছরে মারা যান প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৫৯৮ জন। বর্তমানে প্রায় ৩ লাখ ১৬ হাজার ৪১৭ জন ক্যানসার রোগী চিকিৎসাধীন বা জীবিত রয়েছেন।
মন্ত্রী বলেন, নারীদের মধ্যে স্তন ও জরায়ুমুখ ক্যানসার এবং পুরুষদের মধ্যে ফুসফুস ও মুখ-ঠোঁটের ক্যানসারের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি।
তিনি জানান, ক্যানসার চিকিৎসা সম্প্রসারণে দেশের আটটি বিভাগীয় সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার চিকিৎসা ইউনিট স্থাপনের কাজ চলছে। এর মাধ্যমে বিভাগীয় পর্যায়ে রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি ও সার্জিক্যাল অনকোলজি সেবা সম্প্রসারিত হবে।
এ ছাড়া জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের শয্যা ও অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলমান রয়েছে। ক্যানসার রোগীর প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে জনসংখ্যাভিত্তিক ও হাসপাতালভিত্তিক ক্যানসার রেজিস্ট্রি কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আরিফা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে দ্রুত এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
মাতৃমৃত্যু ও হাসপাতালের চাপ
নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবিরের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রসবকালীন মাতৃমৃত্যুর তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সন্তান জন্মদানের সময় কোনো মায়ের মৃত্যু হলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা বর্তমানে নেই।
অন্যদিকে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ঢাকার সরকারি হাসপাতালগুলোতে নির্ধারিত শয্যা সংখ্যার তুলনায় চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে হাসপাতালগুলোর টয়লেটসহ বিভিন্ন সেবার মান বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।






