মোহনগঞ্জে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, দেড় মাসেও গ্রেপ্তার হয়নি স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা

পিপলস নিউজ রিপোর্ট: নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ১০ বছরের এক অবুঝ শিশুকে ধর্ষণের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এই পাশবিকতার শিকার হয়ে শিশুটি বর্তমানে প্রায় সাড়ে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এই ঘটনায় স্থানীয় পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলেও, ঘটনার দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আসামিকে আইনের আওতায় আনতে না পারায় চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী অসহায় পরিবারটি। মামলায় ভুক্তভোগী শিশুটিকে কিছুটা মানসিক প্রতিবন্ধী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযুক্ত আসামির নাম মোহন তালুকদার (২৫)। তিনি মোহনগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন। তার দলীয় পদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সোহেল রানা।

স্থানীয় বাসিন্দা, এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, শিশুটির বাবা জীবিকার তাগিদে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দিনমজুরের কাজ করেন। তার মা স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কাজ করে তিন মেয়েকে নিয়ে সংসার চালান। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর দুপুরে শিশুটির মা কাজের জন্য বাইরে গেলে ঘরে শিশুটি ও তার দুই ছোট বোন ছিল। এই সুযোগে প্রতিবেশী মোহন তালুকদার ঘরে প্রবেশ করে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। ফলে ভয়ে ও লোকলজ্জায় শিশুটি ঘটনাটি দীর্ঘদিন গোপন রাখে।

চলতি বছরের ১২ মার্চ শিশুটি অসুস্থ বোধ করলে এবং তার মধ্যে শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে মা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে শিশুটি ঘটনাটি খুলে বলে। পরদিন ১৩ মার্চ পৌর শহরের একটি ক্লিনিকে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর চিকিৎসক জানান শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। পরবর্তীতে আলট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্টে তার ১৩ সপ্তাহের গর্ভধারণের তথ্য পাওয়া যায়। ১৫ মার্চ অন্য একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও একই রিপোর্ট আসে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ১৫ মার্চ তারা আইনি পদক্ষেপ নিতে মোহনগঞ্জ থানায় গেলে পুলিশ তাদেরকে আদালতে অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেয়। এরপর ২৮ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে আদালতে অভিযোগ করেন। আদালত মোহনগঞ্জ থানাকে মামলাটি রেকর্ড করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলে গত ২ মে থানায় ধর্ষণের মামলাটি রুজু হয়। মামলা হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত মোহন তালুকদার গা-ঢাকা দিয়েছেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিশুটির মা বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। আমার স্বামী দিনমজুরের কাম করে, আমি মানুষের বাসায় কাম করি। আমার মেয়েটা ছোট মানুষ, কিছুই বোঝে না। তার জীবনটা নষ্ট করে দেওয়া হইছে। মামলা করছি, কিন্তু আসামি এখনো ধরা পড়ে না। আমার মেয়ের যে সর্বনাশ করছে, আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

থানায় মামলা নিতে গড়িমসির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম বলেন, বাদীপক্ষ বিষয়টি নিয়ে প্রথমে থানায় আসেনি, তারা আদালতে মামলা করেছে। তাদের জিজ্ঞাসা করলে জানিয়েছে, তারা না বুঝতে পেরে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। অথচ প্রথমে পুলিশের কাছে এলে সহজেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হতো। তবে এজাহারে উল্লেখিত আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ আন্তরিকভাবে অভিযান চালাচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *