ট্রাম্পের আহ্বান উপেক্ষা করে ইসরায়েলের নতুন হামলা, পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান

পিপলস নিউজ রিপোর্ট: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এর জবাবে ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান।

সোমবার (৮ জুন) উভয় পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, ইসরায়েল আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইরানের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হেনেছে।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইসরায়েল ও ইরানের নতুন কোনো হামলা ওয়াশিংটন ও তেহরানের চলমান শান্তি আলোচনাকে প্রভাবিত করবে না। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “সব সিদ্ধান্ত আমি নেই, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নয়।”

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, রোববার ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে প্রায় আধাঘণ্টার ফোনালাপ হয়। ওই সময় ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে নতুন হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। অ্যাক্সিওস এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বলেন, “আমরা একটি ভালো চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। তাই এখন নতুন হামলা থেকে বিরত থাকুন।”

তবে সেই আহ্বানের পরও ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালায়।

এর জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের নাজারেথের কাছে অবস্থিত রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে নিক্ষেপ করা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে এবং দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।

এদিকে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। সোমবার লেনদেন শুরুর দিকে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলারের ওপরে উঠে যায়।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অন্যতম জটিল ইস্যু হয়ে উঠেছে লেবাননের পরিস্থিতি। ইসরায়েল গত সপ্তাহে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির উদ্যোগের পরও বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালিয়েছে। ইরান দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো শান্তি চুক্তি কার্যকর করতে হলে লেবাননেও যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে হবে।

ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, লেবাননসংক্রান্ত চুক্তি লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলি স্থাপনাগুলো বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া সংঘাত এপ্রিলের শুরুতে আংশিক যুদ্ধবিরতির পর কিছুটা স্থবির হয়ে পড়লেও উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। ইরান এখনও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা বজায় রেখেছে, আর যুক্তরাষ্ট্রও ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ অব্যাহত রেখেছে।

যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন যে একটি সমঝোতা খুব কাছাকাছি, তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দকৃত সম্পদ ফেরত এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ভূমিকার স্বীকৃতিসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

এদিকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদী সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের জব্দকৃত সম্পদ অন্য কোনো দেশে স্থানান্তরের চেষ্টা করা হলে তেহরান তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *