কুমিল্লায় রেললাইনে ইন্টার্ন চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার

কুমিল্লা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার রেললাইন থেকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক কাওসার তাহমিদের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাত সোয়া ৮টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

ডা. কাওসার তাহমিদ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ২৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং ইন্টার্ন চিকিৎসক ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকালে মরদেহের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে কুমিল্লা পুলিশ মরদেহটি অজ্ঞাত পরিচয়ে উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে।পরবর্তীতে মরদেহের আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে পিবিআইয়ের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ডাটাবেসে যাচাই করা হলে তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সঙ্গে মিল পাওয়া যায়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিষয়টি ময়মনসিংহ পুলিশের সংশ্লিষ্ট ফাঁড়িকে জানানো হয়।

তবে পারিবারিক বাসা পরিবর্তনের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে স্বজনদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় কুমিল্লা পুলিশ অজ্ঞাত পরিচয়ে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফনের ব্যবস্থা করে।

পরে ময়মনসিংহ পুলিশের এক সদস্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এনআইডি-সংক্রান্ত একটি পোস্ট দিলে তা ডা. কাওসার তাহমিদের পরিচিত একজনের নজরে আসে। এর মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর খবর পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে পৌঁছে যায়।এ বিষয়ে ডা. কাওসার তাহমিদের চাচা মোহাম্মদ লিটন বলেন, তাঁর ভাতিজা মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থতায় ভুগছিলেন। শনিবার বিকেলে পরিবারের কাছে দুর্ঘটনার খবর পৌঁছায়। তাঁরা দ্রুত কুমিল্লায় পৌঁছালেও এর আগেই মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়। মরদেহ হস্তান্তরের জন্য তাঁরা আবেদন করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এ প্রক্রিয়ায় কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

স্বজন ও সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। রাতের দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।সহপাঠীরা জানান, চূড়ান্ত পেশাগত পরীক্ষা দেওয়ার আগেই ডা. কাওসার তাহমিদ দীর্ঘদিন মানসিক অসুস্থতায় ভুগেছিলেন। নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ সেবনের মাধ্যমে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন এবং পরবর্তী সময়ে পেশাগত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। মৃত্যুর কয়েক দিন আগেও তিনি সহকর্মী ও ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে স্বাভাবিক ও প্রফুল্লভাবে কথা বলেছেন বলে জানান তাঁরা।এই মর্মান্তিক ঘটনায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজসহ চিকিৎসক সমাজে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সূত্র মেডিভয়েস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *