নির্বাচিত হলে স্বাস্থ্যখাতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে বিএনপি

পিপলস নিউজ রিপোর্ট: নির্বাচিত হলে স্বাস্থ্যখাতে দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঘোষিত বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে এ প্রতিশ্রুতির কথা জানানো হয়। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইশতেহার ঘোষণা করেন।

ইশতেহারে স্বাস্থ্যখাতকে অন্যতম অগ্রাধিকার খাত হিসেবে উল্লেখ করে একাধিক প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়েছে। ঘোষিত নয়টি প্রধান প্রতিশ্রুতির মধ্যে তৃতীয় প্রতিশ্রুতিতে বলা হয়, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদারের কথা বলা হয়েছে।

নির্বাচনী ইশতেহারের দ্বিতীয় অধ্যায়ের ১৯ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘স্বাস্থ্যসেবা’ শিরোনামে উল্লেখ করা হয়, স্বাস্থ্য কোনো সুযোগ-সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতির আলোকে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বা ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ নিশ্চিত করাই বিএনপির লক্ষ্য। পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিককে মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

ইশতেহারে স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নে বেশ কয়েকটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—স্বাস্থ্যখাতে জিডিপির পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করা, ই-হেলথ কার্ড চালু, বিনামূল্যে মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং প্রতিটি জেলায় আধুনিক সেকেন্ডারি স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট প্রতিষ্ঠা।

এ ছাড়া দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং প্রাণঘাতী রোগের চিকিৎসায় পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

ইশতেহারে আরও বলা হয়, ওষুধ ও ভ্যাকসিন সরবরাহ নেটওয়ার্ক উন্নত করা হবে। মহামারি ও মশাবাহিত রোগ নির্মূলে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও পুষ্টি বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো, নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স পুল এবং জরুরি সেবা নেটওয়ার্ক গঠনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যখাতে অটোমেশন জোরদারের অংশ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক জাতীয় ই-প্রেসক্রিপশন ব্যবস্থা ও প্রেসক্রিপশন অডিট চালুর পরিকল্পনার কথাও ইশতেহারে রয়েছে। একই সঙ্গে মেডিকেল শিক্ষার মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্যকর্মীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, স্বাস্থ্যখাতে সহিংসতা রোধ, মেডিকেল বর্জ্যের নিরাপদ ব্যবস্থাপনা, সমন্বিত পুষ্টি কর্মসূচি এবং তামাক ব্যবহারজনিত অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *